Summary
একটি বিবরণে আসমানিজসীমউদ্দীন আসমানির দুঃখ ও দারিদ্র্যের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়িটি পাখির বাসার মতো, অস্থায়ী এবং অত্যন্ত দুর্বল।
- আসমানির পরিবার অনাহারে দিন কাটাচ্ছে, যেখানে তাদের পেট ভরারও ব্যবস্থা নেই।
- ঘরের পরিবেশ খুবই বিপজ্জনক, অশ্রু এবং দারিদ্র্যের চিহ্ন স্পষ্ট।
- বাড়ির অনতিদূরে পদ্ম-পুকুর রয়েছে, কিন্তু সেখানে ম্যালেরিয়ার মশা ও রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
- চিকিৎসার জন্য অর্থের অভাব রয়েছে, ফলে আসমানিদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
আসমানি
জসীমউদ্দীন
আসমানিরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা- ভেন্না পাতার ছানি
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে,
তারি তলে আসমানিরা থাকে বছর ভরে।
পেটটি ভরে পায় না খেতে, বুকের ক'খান হাড়,
সাক্ষী দেছে অনাহারে কদিন গেছে তার।
মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ-রাশি,
থাপড়েতে নিবিয়ে গেছে দারুণ অভাব আসি।
পরনে তার শতেক তালির শতেক ছেঁড়া বাস,
সোনালি তার গার বরনের করছে উপহাস।
ভোমর-কালো চোখ দুটিতে নাই কৌতুক-হাসি,
সেখান দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু রাশি রাশি।
বাঁশির মতো সুরটি গলায় ক্ষয় হল তাই কেঁদে,
হয়নি সুযোগ লয় যে সে-সুর গানের সুরে বেঁধে।
আসমানিদের বাড়ির ধারে পদ্ম-পুকুর ভরে,
ব্যাঙের ছানা শ্যাওলা-পানা কিল-বিল-বিল করে।
ম্যালেরিয়ার মশক সেথা বিষ গুলিছে জলে
সেই জলেতে রান্না খাওয়া আসমানিদের চলে।
পেটটি তাহার ফুলছে পিলেয়, নিতুই যে জ্বর তার,
বৈদ্য ডেকে ওষুধ করে পয়সা নাহি আর।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সায়নী তার বাবা মার সাথে এক বস্তিতে থাকে। তাদের দুবেলা দুটো ভাত ঠিকমতো জোটে না, বৃষ্টি হলে ঘরে পানি পড়ে। পাশের জলাশয়ের নোংরা, জীবাণুযুক্ত জলেই তাদের রান্নাবান্না চলে।
ভেন্না পাতা - ভেন্না এক ধরনের গাছ। গরিব মানুষ এ গাছের পাতা ঘরের ছাউনি হিসেবে ব্যবহার করে।
সাক্ষী - কোনো ঘটনা যে সামনে থেকে দেখে এবং দরকারি জায়গায় প্রকাশ করে। প্রত্যক্ষদর্শী।
দেছে - 'দিয়েছে' শব্দের আঞ্চলিক রূপ।
অনাহারে - আহার বা খাবার-ছাড়া। না খেয়ে বা অভুক্ত থাকা।
হাসির প্রদীপ-রাশি - প্রদীপ যেমন আলো ছড়ায়, তেমনি হাসি মুখমণ্ডলকে উজ্জ্বল করে। আনন্দময় অনুভূতি প্রকাশ করে।
বাস - পোশাক। জামা।
গার - গায়ের। শরীরের।
বরনের - রঙের।
উপহাস - ঠাট্টা।
মশক - মশা।
পিলে - প্লীহা। Spleen। পাকস্থলীর বাম পাশের একটি অংগ। এ অংগের অসুখ হলে পেট ফুলে ওঠে।
নিতুই - নিত্য বা প্রতিদিন। রোজ। এটি একটি কাব্যিক পদ।
বৈদ্য - কবিরাজ। গ্রাম্য চিকিৎসক।
'আসমানি' কবিতায় সাধারণ মানুষের প্রতি, বিশেষত গ্রামের শিশুদের দুঃখ-কষ্টময় জীবনের প্রতি মমতাময় অনুভূতির নান্দনিক প্রকাশ ঘটেছে।
আসমানি গরিব, তাদের বাসা পাখির বাসার মতো হালকা। একটু বৃষ্টিতেও তাদের বাসা নড়বড় করে। ঠিক মতো খেতে পায় না বলে অসুখে ভোগে। পোশাক তার ছেঁড়া। মুখে তার হাসি নেই, কণ্ঠে নেই গান। তাদের বাড়ির আশপাশ অস্বাস্থ্যকর। আসমানির জীবনে আনন্দ নেই।
অনেক দরদ দিয়ে কবি আসমানির জীবনের যে চিত্র এঁকেছেন, তা আমাদের সহানুভূতি এবং সামাজিক দায়বোধ জাগিয়ে তোলে।
জসীমউদ্দীন ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর কবিতা রচনা শুরু। তিনি যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, তখনই তাঁর 'কবর' কবিতা প্রবেশিকা শ্রেণির বাংলা সংকলনে স্থান পায়। তাঁর কবিতায় গ্রামবাংলার জীবন ও প্রকৃতির ছবি ফুটে উঠেছে সহজ- সরল ভাষা ও সাবলীল ছন্দে।
জসীমউদ্দীনের প্রধান কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'নক্সী কাঁথার মাঠ', 'সোজন বাদিয়ার ঘাট', 'রাখালী', 'বালুচর', 'ধানখেত' 'সুচয়নী' ইত্যাদি। এ ছাড়া তিনি ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, নাটক, সঙ্গীত ও প্রবন্ধের বই রচনা করেছেন। শিশুদের জন্য লেখা 'ডালিম কুমার' তাঁর অনবদ্য রচনা। জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার মাধ্যমে, পরে তিনি দীর্ঘ দিন কাজ করেন সরকারের প্রচার বিভাগে। ১৯৭৬ সালে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
১। ছুটিতে গ্রামে গিয়ে কবিতায় বর্ণিত জীবনের সঙ্গে মেলে এমন পরিবারের ঘরদোর, পোশাক, খাবার ইত্যাদির একটি তালিকা প্রস্তুত কর।
২। উক্ত তালিকার ভিত্তিতে গরিব মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বর্ণনা দাও।
Read more